নেত্রকোনা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মগড়া নদীকে পুনর্জীবিত করতে ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এক সময় প্রমত্ত এই নদী বর্তমানে দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই প্রকল্পের আওতায় ৪১ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া শহরের অংশে নদীর দুই পাড়ে ৫ কিলোমিটার হাঁটার পথ নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, চলতি বছরের শুষ্ক মৌসুমেই খননকাজ শুরু হবে। সাতটি প্যাকেজে সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ সম্পন্ন করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নদীটি পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি স্থানীয় ফসল রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে মগড়া নদীর দুই তীরে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসন ও পাউবোর হিসাব অনুযায়ী, সিএস খতিয়ান ভিত্তিতে নদীর দুই পাড়ে অন্তত ৩৮১টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান জানান, এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করা হবে। দখলের পাশাপাশি শহরের ১৩টি নর্দমা এবং বিভিন্ন ক্লিনিক ও কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলায় পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, কয়েক দশক আগেও এই নদীতে বড় বড় পালতোলা নৌকা ও স্টিমার চলাচল করত। কিন্তু অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ এবং ধারাবাহিক দখল-দূষণে নদীটি এখন নিশ্চল হয়ে পড়েছে। নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক জানান, মগড়া নদীকে দখলমুক্ত ও সংস্কার করে একটি আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
নেত্রকোনার মগড়া নদী পুনর্জীবিত করতে ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৪১ কিলোমিটার নদী খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। দখল ও দূষণমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।


0 Comments