ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে তীব্র হচ্ছে মানবপাচার ও সমুদ্রপথে মৃত্যুর ঝুঁকি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে তীব্র হচ্ছে মানবপাচার ও সমুদ্রপথে মৃত্যুর ঝুঁকি

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গা সংকট গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবপাচারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন হ্রাস, জীবিকা ও শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং নথিপত্রের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে দালাল চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ‘এএল বিজিডি ৪/২০২৬’ শীর্ষক বিশেষ নথিতে এই উদ্বেগের চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে অন্তত ৪০৭টি মানবপাচারের ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ, ২২ শতাংশ নারী এবং ২১ শতাংশ শিশু রয়েছে। পুরুষ ও ছেলেদের কৃষি, পশুপালন, মাছ ধরা ও নির্মাণকাজে এবং নারী ও মেয়েদের জোরপূর্বক শ্রম ও যৌনকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। চাকরি, শিক্ষা বা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারগুলোকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। শিবিরে সুযোগের অভাবে রোহিঙ্গারা বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন। ২০২৫ সালে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ট্রলারে সমুদ্রযাত্রায় নেমেছিলেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৮৯০ জন সাগরে ডুবে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৪ সালের তুলনায় প্রাণহানি বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি, যার দুই-তৃতীয়াংশই নারী ও শিশু। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে) ৪ হাজার ৩৪৯ জন রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে রওনা হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৬ শতাংশ বেশি। গত ৯ এপ্রিল টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবে অন্তত ২৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধারকৃতদের অনেক সময় ভুক্তভোগী হিসেবে সুরক্ষা না দিয়ে অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের পরিপন্থী। এছাড়া চলতি বছরের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম। উদ্ধারকৃতদের নিরাপত্তা, মানবপাচার প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচার এবং রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সুরক্ষাসহ ১০টি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে ৯ এপ্রিলের নৌকাডুবির তদন্ত, সমুদ্র থেকে উদ্ধার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, পাচার রোধ এবং ভুক্তভোগীদের আইনি ও চিকিৎসাগত সহায়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মানবপাচারের মূল ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সংক্ষেপে:
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বাড়ছে মানবপাচার ও সমুদ্রপথে প্রাণহানির ঝুঁকি। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। সরকারের কাছে ১০ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতিসংঘ।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে তীব্র হচ্ছে মানবপাচার ও সমুদ্রপথে মৃত্যুর ঝুঁকি

0 Comments