ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

কুড়িগ্রামে মাদরাসার জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তদন্ত শুরু

কুড়িগ্রামে মাদরাসার জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তদন্ত শুরু

কুড়িগ্রামের উলিপুরে গোড়াই পিয়ার পিয়ারিয়া দাখিল মাদরাসার ১৫ শতাংশ জমিতে চারটি বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় লোকজনের বিরুদ্ধে। জমি দখলের কারণে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার স্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সীমানা নির্ধারণপূর্বক জমিটি দখলমুক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে গত ২ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন জমা দেন মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুস সবুর। ওই আবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুরুন্নবী সরকার ও তার আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে মাদরাসার জমিতে ঘর তোলার অভিযোগ আনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হওয়া এই মাদরাসার নামে তিনটি দলিলে মোট ৮০ শতক জমি রয়েছে। সাবেক দাগ নম্বর ৩৭৭১, সাবেক খতিয়ান ১৩৬০ এবং হাল দাগ নম্বর ৩৯৪৬ ও হাল খতিয়ান ৮৮৬ নম্বরের এই সম্পত্তি মাদরাসার নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে এবং এর নিয়মিত নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করা হয়। মাদরাসার শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর ভাঙনে নিজেদের বসতভিটা হারিয়ে আজিজার রহমান, আশরাফুল ইসলাম ও কয়ছার আলী ওই এলাকায় এসে ঘরবাড়ি তৈরি করেন। তাদের এই বসতি মাদরাসা মাঠের অংশজুড়ে গড়ে ওঠায় ছাত্রীদের খেলাধুলার জায়গা কমে গেছে। অন্যদিকে, তিস্তার ভাঙনে বাপ-দাদার ভিটা হারিয়ে যাওয়া এবং অন্য কোনো বসবাসের জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে সেখানে ঘর তুলে বসবাস করছেন বলে জানান স্থানীয় পরিবারগুলো। অভিযুক্ত স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুরুন্নবী সরকার দাবি করেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তার আত্মীয়-স্বজনের কয়েকটি পরিবার তার নিজের পাঁচ শতাংশ জডিসহ মাদরাসার জমিতে বাড়ি নির্মাণ করেছে এবং বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ পেলে তারা ওই স্থান ছেড়ে চলে যাবেন। তিনি আরও জানান, তার পরিবারের অনেকেই অতীতে মাদরাসায় জমি দান করেছেন এবং মাদরাসার সুপার তাকে ‘ভূমিদস্যু’ বলে সম্বোধন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সুপারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করেছেন। মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুস সবুর বলেন, মাদরাসার জমির বৈধ রেকর্ড, নামজারি ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা সত্ত্বেও জমিতে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাসহ প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই সীমানা নির্ধারণ ও জমিটি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. আরিফ জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তে মাদরাসার জমি দখলের সত্যতা প্রমাণিত হলে নিয়মানুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংক্ষেপে:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে মাদরাসার ১৫ শতাংশ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রামে মাদরাসার জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তদন্ত শুরু

0 Comments