যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দেশটির আনসার ও দেইর আল-জাহরানি অঞ্চলে পৃথক হামলায় অন্তত ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে সাতজনই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, রাজধানী বৈরুত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনসার শহরের উপকণ্ঠে একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের সাতজন নিহত হন। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, নিহতরা সবাই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন এবং সেখানে কোনো সামরিক অবকাঠামো ছিল না। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও শিশু ও নারী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, ওই কমান্ডার তার পরিবারের সদস্যদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন এবং হামলায় তিনিসহ বেশ কয়েকজন সহযোগী নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তিন ইসরায়েলি সেনা আহত হওয়ার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং পরে সেগুলোকে সামরিক স্থাপনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া দেইর আল-জাহরানি শহরে চালানো অপর এক হামলায় আরও চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের আনসার ও দেইর আল-জাহরানি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর এক কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল, তবে লেবানন একে বেসামরিক হত্যা বলে নিন্দা জানিয়েছে।


0 Comments