সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে কোনো ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেনি ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে বলে তারা মনে করছে না। গত শুক্রবার পবিত্র মক্কা নগরীতে এই তিন দেশের মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তিটি সই হয়।
চুক্তির বিষয়ে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, এই চুক্তিটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, এর মাধ্যমে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের সক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভর করার প্রবণতা ফুটে উঠেছে। বাঘেই আরও উল্লেখ করেন যে, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নেওয়া যেকোনো পরিকল্পনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে।
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের এই নতুন জোটের মূল লক্ষ্য ইরানকে মোকাবিলা করা। যদিও তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক তুলনামূলক ভালো, তবে সৌদি আরবের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বিদ্যমান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি জিজান প্রদেশে ড্রোন হামলার ফলে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে অতীতে নানা বিষয়ে টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমানে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। পাকিস্তানও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কোনো আশঙ্কা দেখছে না ইরান। তেহরানের মতে, এই চুক্তি আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বনির্ভর হওয়ার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।


0 Comments