সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) টানা তৃতীয় দিনের মতো দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে। লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও দিনের শেষে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমায় বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। তবে সূচক কমলেও উভয় বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
রবিবার লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক একপর্যায়ে ৩৩ পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এতে বিনিয়োগকারীরা বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করলেও প্রথম দেড় ঘণ্টা পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের দরপতন শুরু হয় এবং শেষভাগে ঢালাওভাবে দাম কমতে থাকে।
দিনশেষে ডিএসইতে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও কমেছে ২৪৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪১টি প্রতিষ্ঠানের দর। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের চেয়ে ২০৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আধিপত্য ছিল মালেক স্পিনিং, বেক্সিমকো ও সমরিতা হাসপাতালের।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬৮ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৪টির দাম বাড়লেও কমেছে ১১২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। সিএসইতে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে চাঙ্গা ভাব বজায় রাখতে না পারা এবং শেষভাগে বিক্রেতাদের চাপের কারণেই এই ধারাবাহিক পতন ঘটেছে।
দেশের শেয়ারবাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো দরপতন হয়েছে। রবিবার ডিএসই ও সিএসইতে সূচক কমলেও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও শেষভাগে বিক্রেতাদের চাপে অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমেছে।


0 Comments