ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

তিস্তার দুর্গম চরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে রংপুর বন্ধুসভার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আলোর পাঠশালা

তিস্তার দুর্গম চরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে রংপুর বন্ধুসভার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আলোর পাঠশালা

লালমনিরহাটের তিস্তা নদীবেষ্টিত দুর্গম হরিণচওড়া মাঝের চরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কাজ করছে রংপুর বন্ধুসভা। দুই বছর আগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করতে গিয়ে চরের শিশুদের দুর্দশা দেখে বন্ধুরা সেখানে একটি পাঠশালা তৈরির উদ্যোগ নেন। বর্তমানে ‘আলোর পাঠশালা’ নামের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান চলছে।

ভৌগোলিকভাবে লালমনিরহাটে অবস্থিত হলেও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই চরের বাসিন্দারা শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য রংপুরের হারাগাছ পৌরসভার ওপর নির্ভরশীল। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, চরের ৯০ শতাংশের বেশি শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতায় গত বছরের ২৪ অক্টোবর ৪৬ জন শিশুকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘আলোর পাঠশালা’। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ছকিম উদ্দিন এই পাঠশালার উদ্বোধন করেন।

শুরুতে সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস চললেও বর্তমানে স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের সহায়তায় সপ্তাহে ছয় দিন পাঠদান করা হচ্ছে। শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোরশেদুল ইসলাম, আমজাদুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার, আজম মিয়া ও ফাতেমা খাতুন। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে আসছে। তবে স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় গাছতলায় বা সাময়িকভাবে সরকারি কলোনির অফিসে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

প্রথম আলোর রংপুরের ফটোসাংবাদিক মইনুল ইসলাম জানান, স্থায়ী অবকাঠামো এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রংপুর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, যা চরের ভবিষ্যতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য কেউ এগিয়ে এলে তারা জমির ব্যবস্থা করতে আগ্রহী।

সংক্ষেপে:
লালমনিরহাটের দুর্গম হরিণচওড়া মাঝের চরে শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে রংপুর বন্ধুসভার আলোর পাঠশালা। প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে এই ব্যতিক্রমী শিক্ষা কার্যক্রম।
তিস্তার দুর্গম চরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে রংপুর বন্ধুসভার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আলোর পাঠশালা

0 Comments