বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাসে দেশের গাজীপুর, সাভার, কুষ্টিয়া, কুড়িল, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ছয়টি মোবাইল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব দুর্ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আব্দুল্লাহিল কাফি নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর পকেটে থাকা ‘অনার ২০০’ মডেলের একটি স্মার্টফোন বিস্ফোরিত হয়। ভুক্তভোগী কাফি জানান, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হঠাৎ সামনে একটি কুকুর চলে আসায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। ওই সময় তার পকেটে থাকা ফোনটি বিস্ফোরিত হয়ে প্যান্টে আগুন ধরে যায়। দ্রুত সরে যাওয়ায় তিনি বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও ৩৮ হাজার টাকায় কেনা ফোনটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মার্টফোনের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাশেদুল ইসলাম ও রবিউল আকন্দসহ একাধিক মোবাইল ব্যবহারকারী ম্যানুফ্যাকচারিং ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এই বিস্ফোরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্র্যান্ড অনার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১৪ জুলাই রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় একই মডেলের একটি ফোন বিস্ফোরিত হয়। এছাড়া গত ২৪ জুন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলামের পকেটে থাকা ভিভো ওয়াই-১২ এবং ২১ জুন টঙ্গীতে ভিভো ওয়াই-২০ মডেলের ফোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গত ১৪ জুন আশুলিয়ায় মোবাইল বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং ওই ঘটনায় ঘরের আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশে একের পর এক স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সিরাজগঞ্জে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার পর এক শিক্ষার্থীর পকেটে থাকা মোবাইল বিস্ফোরিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েক মাসে দেশে এমন একাধিক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।


0 Comments