তীব্র দাবদাহের মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারা দেশে লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দিনে ও রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ ও মাগুরার দেবাশিষ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের শিল্প এলাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছেন। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুরের ভবের বাজারে পল্লী বিদ্যুতের অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন এবং ওজোপাডিকো পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে এনে রাত ৮টা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকসজ্জা ও বিলবোর্ড বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তবে এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা কম। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলমও দ্রুত পরিস্থিতি উন্নতির বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তীব্র গ্যাস সংকটে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।


0 Comments