সংসদ সদস্য হওয়ার উদ্দেশ্যে হান্নান মাসউদ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতার লোভে কারা শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র দুই দিন পর ৭ আগস্ট থেকেই হান্নান মাসউদ দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেইলি রোডের কেএফসিতে হাতিয়ার আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তার প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন ও তার ভাতিজা রাজুসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে ১২ ও ১৫ আগস্ট বাংলামোটরের ওয়াটারফল রেস্টুরেন্টে এবং ২২ আগস্ট হোটেল ফার্সেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন চরঈশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আব্দুল হালিম আজাদ ওরফে পিচ্চি আজাদ, সোনাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম মালয়েশিয়া, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেরাজ উদ্দিন, তমরদ্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন বাবু এবং যুবলীগ নেতা মাহতাব উদ্দিন রতন।
রাশেদ খানের দাবি অনুযায়ী, এসব বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল হান্নান মাসউদকে হাতিয়ার এমপি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহীদের রক্ত শুকানোর আগেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সহায়তায় এমপি হওয়ার এই তোড়জোড় শুরু হয়েছিল।
এমপি হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে হান্নান মাসউদের গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। শহীদের রক্ত মাড়িয়ে এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

0 Comments