বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল ও উন্মুক্ত গন্তব্য হিসেবে বিশ্বদরবারে উপস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও উন্নয়ন’—এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন গতি আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, জ্বালানিসংকট ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি জানান, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনের মধ্যেই সুদৃঢ় লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করতে সরকার যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, সম্মেলনের কর্ম-অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বড় বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে ঋণের খরচ বাড়ায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া ব্যবসায়িক নিয়মকানুন সহজ করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণাও দেন অর্থমন্ত্রী। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা বিনিয়োগ ও অর্থনীতির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
বিনিয়োগের স্থিতিশীল গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে নতুন অর্থনৈতিক পথনকশা ঘোষণা করেছে সরকার। সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কাজ করছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়।

0 Comments