পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নিজ বাসভবনে দলীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে ঐতিহাসিক সাফল্য পেলেও মমতা অভিযোগ করেছেন, কারচুপির মাধ্যমে জনগণের রায় জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর এই অনড় অবস্থানের ফলে রাজ্য প্রশাসন, রাজভবন এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এক নজিরবিহীন ও জটিল সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজ্যে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। মমতা জানান, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যসহ অন্যদের নিয়ে তিনি এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে লোকসভার সাবেক মহাসচিব পিডিটি আচার্য জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। তাই পদত্যাগ করা বা না করায় আইনি কোনো পার্থক্য তৈরি হবে না। অন্যদিকে বিজেপি আগামী ৯ মে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে। বিজেপির এই উদ্যোগের প্রতিবাদে ওই দিন সারা রাজ্যে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়গুলোতে রবীন্দ্রসংগীত বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ব্যানারে তারা এই ‘চুরি হওয়া ম্যান্ডেট’-এর বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট কারচুপির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হারলেও পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অনড় তিনি। ৯ মে বিজেপির শপথের দিন প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে তৃণমূল।

0 Comments