ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয়ের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরটি নিছক প্রটোকল রক্ষা নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের একটি সূক্ষ্ম প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তৈরি হওয়া দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে এই রাষ্ট্রীয় সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মূলত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে সম্পর্কের যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সফরের আগে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার ক্রিশ্চিয়ান টার্নারের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সম্পর্ক এখন অনেকটাই অতীতনির্ভর। তবে রাজা চার্লস তাঁর ভাষণে ইতিহাস ও প্রতীকের মিশেলে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি শেক্সপিয়র, চার্চিল ও আব্রাহাম লিংকনের মতো ব্যক্তিত্বদের উদ্ধৃতি দিয়ে সম্পর্কের গভীরতা ও সংকটের সময় দুই দেশের ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন।
কূটনৈতিক এই আবহে রাজা চার্লস কিছুটা রসিকতাও করেন। ট্রাম্পের এক মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ব্রিটেন না থাকলে হয়তো আমেরিকানরা ফরাসি ভাষায় কথা বলত। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর মায়ের রাজতন্ত্রের প্রতি অনুরাগের কথা স্মরণ করেন এবং ইংরেজিভাষী বিশ্বের অভিন্ন রীতিনীতি ও আইনের শাসনের প্রশংসা করেন।
তবে এই সফরে গাজা, লেবানন বা ইরানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা ও এড়িয়ে যাওয়া বিষয়গুলোই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ এই সফরটি ছিল সম্পর্কের টানাপোড়েন আড়াল করে নতুন করে সেতুবন্ধন তৈরির এক বিশেষ প্রয়াস।
রাজা চার্লসের ওয়াশিংটন সফর ও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের এক সূক্ষ্ম প্রয়াস। ইতিহাসের নানা অনুষঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে দুই নেতা সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন।

0 Comments