সময়ের আবর্তে মানুষ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হলেও নিজের সম্পর্কে তার ধারণা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধারাবাহিক আত্মপরিচয় আসলে মস্তিষ্কের তৈরি একটি জটিল ও চলমান প্রক্রিয়া। শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মানুষ পরিণত হলেও মস্তিষ্ক সব সময় পরিচয়কে একক সূত্রে গেঁথে রাখার চেষ্টা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৪০ থেকে ১৯৬০-এর দশকে চিকিৎসার প্রয়োজনে কিছু মৃগীরোগীর মস্তিষ্কের দুই অংশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর অদ্ভুত আচরণ লক্ষ্য করা যেত। এক হাত বোতাম লাগালে অন্য হাত তা খুলে ফেলত, তবুও রোগীরা নিজেদের একক ব্যক্তি হিসেবেই অনুভব করতেন এবং আচরণের স্বপক্ষে নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করতেন। অর্থাৎ, মস্তিষ্ক গল্পের ছলে হলেও নিজের সম্পর্কে একটি অখণ্ড ধারণা বজায় রাখে।
স্মৃতিও মানুষের পরিচয় নির্মাণে বড় ভূমিকা রাখে। মানুষ সাধারণত বর্তমান ধারণার সঙ্গে মানানসই স্মৃতিগুলোই বেশি মনে রাখে। মস্তিষ্কের সামনের দিকে থাকা মিডিয়াল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশটি নিজের পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার সময় সক্রিয় হয়। এছাড়া কানের পেছনের টেম্পোরো-প্যারাইটাল জাংশন অংশটি শরীরকে নিজের বলে অনুভব করতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের এই বাস্তব মনে হওয়া পরিচয় আসলে মস্তিষ্কের একটি নিপুণ মানসিক নির্মাণ মাত্র।
আমরা সময়ের সাথে বদলালেও মস্তিষ্ক আমাদের পরিচয়কে এক সুতোয় গেঁথে রাখে। স্মৃতি এবং মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশ কীভাবে আমাদের আমি সত্তা তৈরি করে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন ব্যাখ্যা জানুন।

0 Comments