বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সাবেক প্রেস সচিব কাফি খানের একটি সাক্ষাৎকারমূলক স্মৃতিচারণ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কাফি খান জিয়াউর রহমানকে একজন নজিরবিহীন সৎ এবং কাজপাগল মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দিনে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমাতেন এবং বছরের ৩৬৫ দিনই দেশের কল্যাণে কাজ করতেন।
কাফি খান জানান, জিয়াউর রহমানের শাসনকালে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারই বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনে জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তাঁর সততার উদাহরণ দিতে গিয়ে কাফি খান উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি তাঁর ছেলের জন্য এক জোড়া নতুন জুতা কিনতে হিমশিম খেতেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সফরে পাওয়া সকল উপহার তিনি তোশাখানায় জমা দিতেন এবং স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জিয়াউর রহমানের বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা ছিল। ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে তাঁর মধ্যস্থতা এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক গঠনের স্বপ্ন তাঁকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন। কাফি খান জানান, সেই সফরটি রাজনৈতিক হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন না। জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ তাঁকে ইতিহাসের এক অনন্য স্থানে বসিয়েছে বলে স্মৃতিচারণায় উঠে আসে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা ও কর্মনিষ্ঠার অজানা নানা দিক তুলে ধরেছেন তাঁর সাবেক প্রেস সচিব কাফি খান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জিয়াউর রহমানকে একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বর্ণনা করেন।

0 Comments