চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনজুর আলম জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন—এমন আলোচনা মাসখানেক ধরে চট্টগ্রামে তুঙ্গে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। দলটির পক্ষ থেকে তাকে আসন্ন চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও রাজনৈতিক ও পারিবারিক চাপে তিনি এনসিপিতে যোগ দেননি।
সূত্রমতে, সম্প্রতি এনসিপির শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসভবনে দেখা করার পর এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা চট্টগ্রাম সফরে যান এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মনজুর আলমকে দলে যোগদান করানোর চেষ্টা করেন। তবে দোটানায় থাকা মনজুর আলম শেষ পর্যন্ত ওই অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান।
মনজুর আলমের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগেও তিনি এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন এবং দলটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনুদানও দিয়েছিলেন। তবে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি এবং সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট হারানোর আশঙ্কায় তার রাজনৈতিক উপদেষ্টারা তাকে সতর্ক করেন। এছাড়া গত ১৪ এপ্রিল হাসনাত আবদুল্লাহ তার বাসায় গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন, যা তাকে আরও চাপে ফেলে দেয়।
বারবার রাজনৈতিক দলবদল করা মনজুর আলম প্রথমে আওয়ামী লীগ, তারপর বিএনপি থেকে মেয়র এবং পরবর্তীতে আবার আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেও মনোনয়ন অনিশ্চিত থাকায় এনসিপির দিকে ঝুঁকেছিলেন। বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার ছেলে সরওয়ার উল আলম জানিয়েছেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার বাবা আপাতত কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হয়ে আড়ালে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের এনসিপিতে যোগদান নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চললেও শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। রাজনৈতিক ও পারিবারিক চাপে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

0 Comments