Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

রাজনৈতিক সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে টানাপোড়েন: নতুন সংকটের মুখে বাংলাদেশ

রাজনৈতিক সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে টানাপোড়েন: নতুন সংকটের মুখে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বর্তমানে এক বিশেষ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক সংস্কার এখন সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন প্রজন্মের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংস্কারের দাবি বারবার উঠলেও তা অধিকাংশ সময় খণ্ডিত ও প্রতিক্রিয়ামূলক হিসেবে দেখা গেছে। ১৯৭২ সালের সংবিধান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের দাবি থাকলেও তা প্রায়ই দলীয় মেরুকরণ ও অভিজাত শ্রেণির নিয়ন্ত্রণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনে উচ্চাভিলাষী সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ২০২৫ সালে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণীত হয়। ২৬টি রাজনৈতিক দল এই সনদে স্বাক্ষর করে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের দিন গণভোটের মাধ্যমে জনগণের বড় অংশের অনুমোদন লাভ করে। তবে ১৩তম জাতীয় সংসদ গঠনের পর এই সনদের আইনগত রূপান্তর নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপিত না হওয়ায় সেগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ অন্যতম। রাষ্ট্র সংস্কারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এসব আইনি পদক্ষেপ থমকে যাওয়ায় সচেতন মহলে হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আন্তরিকভাবে কাজ না করে, তবে দেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের চক্রে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

সংক্ষেপে:
রাজনৈতিক সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে গভীর হতাশা।

Post a Comment

0 Comments