সিবি ডেক্স: বাগেরহাটের মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপোতে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেলের হিসাবে গরমিল ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় ডিপো ম্যানেজার মো. আল আমিন খানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে আকস্মিক যৌথ অভিযানে জ্বালানি তেলের মজুতে ব্যাপক অনিয়ম ও গরমিলের বিষয়টি ধরা পড়ে।
রোববার ওই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাশ, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রবীর হীরা, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বানৌজা মোংলার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) রাইয়ান আলম, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বানৌজা মোংলার এসএইচএ আবুল কাশেম, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট বিএন খালিদ সাইফুল্লাহ, যমুনা অয়েল মোংলার গেজারম্যান মো. জাহিদুর রহমান, বানৌজা মোংলার চিফ পোর্ট অফিসার মো. মিজানুর রহমান, মোংলা থানার এসআই মো. ইমামুল ইসলাম এবং যমুনা অয়েলের কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) মো. ফারুক হোসাইন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে তেলের মজুতে বড় ধরনের গরমিলের তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযানকারী দল ডিপোর তিনটি প্রধান ট্যাংক পরিমাপ করে দেখে, ২৮ মার্চে পাঠানো অফিসিয়াল হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুতের মিল নেই। ১ নম্বর ট্যাংকে হিসাব অনুযায়ী ডিজেল ছিল ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৫ লিটার, কিন্তু বাস্তবে পাওয়া যায় ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার—অর্থাৎ ৯৩২ লিটার বেশি।
৯ নম্বর ট্যাংকে হিসাব অনুযায়ী মজুত ছিল ২৪ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ লিটার, কিন্তু পরিমাপে পাওয়া যায় ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার—যেখানে বাড়তি ১২ হাজার ৮১৮ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়।
১৪ নম্বর ট্যাংকে হিসাব অনুযায়ী ছিল ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার, কিন্তু পরিমাপে পাওয়া যায় ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ লিটার। সব মিলিয়ে তিনটি ট্যাংকে মোট ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত ডিজেল পাওয়া গেছে।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই গরমিলকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বিশেষ করে ৯ নম্বর ট্যাংকের বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই ট্যাংক থেকে তেল পাচারের উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
অভিযান চলাকালে ম্যানেজার মো. আল আমিন খান অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে কম্পিউটার অপারেটর মো. ফারুক হোসাইন রেজিস্টার ও হিসাব উপস্থাপন করেন।
যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমির মাসুদ জানান, তেলের হিসাবে গরমিল পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ট্যাংকগুলো সিলগালা করা হয়েছে। আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
0 Comments