মোংলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বরসহ পরিবারের সদস্যদের জানাজা শেষে দাফন

মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর আহাদুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বাগেরহাট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরাও জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

পরে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে দাফন করা হয় পরিবার প্রধান আবদুর রাজ্জাককে। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিবারের অন্য সদস্যদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, আবদুর রাজ্জাক, তার ছেলে আহাদুর রহমান, আবদুল্লাহ সানি, মেয়ে উম্মে সুমাইয়া (ঐশী), নাতি সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ছেলে আশরাফুল আলম (জনি)-এর স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল) এবং তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরামের মরদেহ মোংলায় আনার পর দুপুরে জানাজার নামাজ শেষে মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এলাকায় এর আগে ঘটেনি। যেখানে বিয়ের আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে এবং সবাই নিহতদের জন্য দোয়া করেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (১১ মার্চ) রাতে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান (সাব্বির)-এর সঙ্গে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার (মিতু)-র বিয়ে হয়।

বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাসে করে ফিরছিলেন। পথে রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ১৪ জন নিহত হন।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে শোক ও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

Post a Comment

0 Comments