নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী হত্যা রহস্য উদঘাটন, সৎপিতার স্বীকারোক্তি

সিবি ডেক্স: নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। আলোচিত এই ঘটনার তদন্তে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীর সৎপিতা আশরাফ আলী তাকে গলাটিপে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিকেলে নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে এ বিষয়ে জবানবন্দিও দেন।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক। তিনি বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ একাধিক ব্যক্তি ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর স্থানীয় সাবেক এক মেম্বারের বিচার কার্যসহ বিভিন্ন কারণে সৎ মেয়ে নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে আশরাফ আলী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপমান থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে আশরাফ আলী পরিকল্পিতভাবে মেয়েটিকে জনৈক সুমনের বাড়িতে রেখে আসার কথা বলে একটি সরিষা ক্ষেতের ধারে নিয়ে যান। সেখানে তিনি একাই গলায় চাপ দিয়ে এবং ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে কিশোরীকে হত্যা করেন। পরে নিজেকে আড়াল করতে নূর মোহাম্মদ নূরাসহ অন্যদের ওপর দায় চাপানোর জন্য একটি মিথ্যা নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে নূর মোহাম্মদ নূরাকে প্রধান আসামি করে মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

আলোচিত এই ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ১ মার্চ আদালত সাতজন আসামির আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দা পুলিশ সৎপিতার ওপর নজরদারি শুরু করে। পরে তাকে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Post a Comment

0 Comments