দীর্ঘদিন জনসম্মুখে তাকে দেখা না যাওয়ায় এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার জ্যাকসন হিংকল। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে জানতে চান, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আদৌ জীবিত আছেন কি না। বিশ্লেষকদের মতে, এই পোস্টের মাধ্যমে নেতানিয়াহু ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে নেতানিয়াহুকে দেখা গেলেও অনেক ব্যবহারকারীর দাবি—এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওটির একটি ফ্রেমে নেতানিয়াহুর হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেক ব্যবহারকারী।
এই একটি দৃশ্য ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুজব। কিছু পোস্টে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়েছিল, যা পরে মুছে ফেলা হয়।
তবে এসব দাবি নাকচ করেছে ইসরাইল সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জীবিত আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই তার দায়িত্ব পালন করছেন।
এর মধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে তারা।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুকে “শিশু হত্যাকারী অপরাধী” বলে উল্লেখ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, “যদি এই অপরাধী বেঁচে থাকে, তবে পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাকে ধাওয়া করা হবে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
0 Comments