ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও, একাধিক মার্কিন দূতাবাস সরাসরি তাদের সরিয়ে নিতে অক্ষমতার কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, তারা এই মুহূর্তে ইসরাইল থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। দূতাবাস জানায়, ইসরাইলের পর্যটন মন্ত্রণালয় মিসর-ইসরাইল সীমান্তের তাবা শহর পর্যন্ত শাটল বাস চালু করেছে। তবে এই পথে যাত্রা করলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
এদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে গেছে এবং সংঘাত হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে, ফলে আগে থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সহকারী সচিব ডিলান জনসন জানান, মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করতে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য সামরিক বিমান ও চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বিদেশে অবস্থানরত প্রায় তিন হাজার মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
কাতারে ইরানের পাল্টা হামলায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার পর সেখানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে। তারা জানায়, নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই এবং সম্ভব হলে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা অন্যান্য স্বাভাবিক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বলা হয়েছে।
যারা কাতারে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের বিকল্প নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে এবং সেই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অঞ্চলের অধিকাংশ মার্কিন দূতাবাস তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে। অনেক স্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন এবং কিছু দূতাবাস পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় শহর দাহরানের কনস্যুলেট এলাকা থেকে নাগরিকদের দূরে থাকতে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় কাউকে সেখানে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, আবুধাবির দূতাবাস ও দুবাইয়ের কনস্যুলেট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং কোনো ধরনের সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকদের অপ্রয়োজনে এসব স্থাপনার কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপদ মনে হলে দেশত্যাগের কথাও বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুবাই ও আবুধাবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট চলাচল করছিল। যাত্রীদের সরাসরি এয়ারলাইনের নির্দেশ ছাড়া বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার (২ মার্চ) জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তাদের সব কর্মীকে সাময়িকভাবে দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেয়।
এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দুবাইয়ের বুরজ আল আরব হোটেল এবং রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
0 Comments