ঈদ সামনে রেখে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার

জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রি চলবে।

এ বিষয়ে শনিবার জ্বালানি বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা আপাতত তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে রোববার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের মতোই প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি করা যাবে।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ইরান–সংকটের আগে যেভাবে স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ ও বিক্রি চলছিল, সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মূলত ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত এবং পরিবহন খাত সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম শনিবার রাজধানীর গুলিস্তানে এক অনুষ্ঠানে বলেন, দূরপাল্লার বাস ও গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাসগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতিকে ঘিরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হলে গত ৬ মার্চ থেকে দেশে তেলের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। তখন মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক দুই লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি যান ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয় এবং সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়। তবে ঈদ সামনে রেখে এখন সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments