মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি: ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন চিত্র

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক এবং সিরিয়া-তে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা। এখানে মার্কিন বাহিনীর ৩৮০তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে, যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং যুদ্ধবিমান পরিচালনায় সহায়তা করে। এই ইউনিটে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনসহ একাধিক স্কোয়াড্রন সক্রিয় রয়েছে।

ইরাকে একসময় সাদ্দাম হোসেনের পতনের সময় ৫০০টিরও বেশি ঘাঁটিতে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। বর্তমানে সে সংখ্যা কমে প্রায় আড়াই হাজারে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের জন্য বাগদাদ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ‘ইসলামিক স্টেট’ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী আল আসাদ ও ইরবিল বিমান ঘাঁটি থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সিরিয়ায় বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা বিভিন্ন ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। তারা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর পুনরুত্থান ঠেকাতে কাজ করছে। তবে গত জুনে ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, দেশটিতে তাদের পরিচালিত সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা আট থেকে কমিয়ে একটিতে নামিয়ে আনা হবে, যা নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।

Post a Comment

0 Comments