ঈদগাঁওতে ঢাবি শিক্ষার্থী শিকলবন্দি, পরিবারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

সিবি ডেক্স: কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে শিকলবন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে। রোববার (২২ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পালাকাটা গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ভুক্তভোগী উম্মে সালমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং রোকেয়া হলের আবাসিক ছিলেন।

উদ্ধারের আগে রাত ১টা ২০ মিনিটে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে তিনি নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকায় চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় পরিবার তাকে জোর করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা ও ঢাকায় ফেরার পথ বন্ধ করে দেয়। ঢাকায় ফিরে যেতে চাইলে তার দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং জোরপূর্বক মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, বড় ভাইয়ের সঙ্গে সৎ-মায়ের অনৈতিক সম্পর্ক জানার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তাকে মারধর করা হয় এবং বড় ভাই তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন। নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা জানিয়ে দ্রুত উদ্ধারের আবেদন জানান তিনি।

ঘটনাটি নজরে আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ডাকসুর সাবেক সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদও ছিলেন, ঈদগাঁও থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল আসাদুর জানান, শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিষয়টি জটিল। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, তাই তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে তার সঙ্গে কথা বলে তাকে স্বাভাবিক মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের দেওয়া মেডিকেল রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। প্রকৃতপক্ষে অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অন্যথায় পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবারের দেওয়া ‘মনোজগত সেন্টার’-এর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহৃত ওষুধগুলো সাধারণত বিষণ্নতা, উদ্বেগ, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও আচরণগত সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ওষুধ শুধুমাত্র নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে গ্রহণ করা উচিত।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে এবং শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিরূপণে প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments