ঢাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আলোচিত কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকির মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর চাঁদাবাজদের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। তালিকা হাতে পেলেই অভিযান শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে।
আইজি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো নির্দিষ্ট দল নেই। নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে। অতীতের তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করবে।
পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, চাঁদাবাজি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের সব ইউনিটকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও তথ্য সংগ্রহ করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করবেন বলেও জানা গেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য জানান, ঈদকে সামনে রেখে চাঁদাবাজদের তৎপরতা আরও বেড়েছে। নগরীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজরা সারা দেশে সক্রিয় হয়ে ওঠে। নগরীর সড়ক ও ফুটপাত থেকে শুরু করে নদীর বালুমহাল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দাদের মতে, শুধু গুলিস্তান এলাকাতেই বছরে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। এতে নগরীর অবৈধ দখলদারত্ব ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্টন ও গুলিস্তান এলাকায় দখলদারি ও চাঁদাবাজির ঘটনায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন টিটু এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু সুফিয়ানের নাম এসেছে।
গত ১২ অক্টোবর চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগে বিএনপি ওই ওয়ার্ডের সব কার্যক্রম স্থগিত করে। দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলাকার এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে থেকে টিটু ও তার সহযোগীরা এখনও দখলদারি ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। হকারদের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অনেক নিম্ন আয়ের ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে তাদের চাঁদা দিয়েই ফুটপাতে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
0 Comments