বকশীগঞ্জে তীব্র জ্বালানি সংকট, তিনদিন ধরে বন্ধ একমাত্র ফিলিং স্টেশন

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত তিনদিন ধরে উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি খোলা বাজারেও জ্বালানি তেল মিলছে না। এতে মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও কৃষকরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন।

উপজেলার একমাত্র মেসার্স পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনের মালিক পরেশ চন্দ্র সাহা জানান, তেলের সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।

জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ সংকট চলায় মানুষের মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সুযোগ পেলেই অনেকে বেশি করে তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় তেল বিক্রিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প মালিকরাও।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বকশীগঞ্জের একমাত্র মেসার্স পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়। পাম্পের সামনে রশি দিয়ে প্রবেশ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বাইরে তেলের আশায় কয়েকটি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার অপেক্ষা করছিল। কয়েকজন কৃষকও ডিজেল পাওয়ার আশায় সেখানে বসে ছিলেন।

ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার উত্তম সাহা জানান, চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। দুইদিন বন্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার রাতে যে তেল পাওয়া গিয়েছিল, তা বুধবার বিকেলেই শেষ হয়ে যায়। উপচে পড়া ভিড়ের কারণে তখন পুলিশ পাহারায় তেল বিক্রি করতে হয়েছে। বুধবার বিকেলের পর থেকে পাম্পে আর কোনো জ্বালানি তেল নেই। টাকা ও গাড়ি পাঠানো হলেও ডিপো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে নাকি দীর্ঘ লাইন রয়েছে, কবে তেল পাওয়া যাবে তাও অনিশ্চিত। এ কারণে পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, তেল না থাকায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে এবং কর্মচারীদের বসিয়ে রেখেই বেতন দিতে হচ্ছে, এতে মালিকপক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী মোরশেদ আকন্দ বলেন, জরুরি কাজে তাকে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু পাম্প বন্ধ থাকায় গত দুইদিন তেল নিতে পারেননি, এতে তার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

দেওয়ানগঞ্জের তারাটিয়া থেকে আসা শিক্ষক আবদুর রহিম জানান, তিনি জামালপুর যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন। পাম্প বন্ধ থাকায় কোথাও তেল পাননি। শেষ পর্যন্ত তিনি গাড়িটি গ্যারেজে রেখে সিএনজিতে করে জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

মেরুরচর গ্রামের কৃষক আলমাছ আলী বলেন, ডিজেলের অভাবে তার শ্যালো মেশিন বন্ধ রয়েছে। ফলে ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। নির্ধারিত সময়ে ডিজেল না পেলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাইভেটকার চালক হাসান বলেন, ঈদের সময় যাত্রী বেশি থাকায় ভাড়া ভালো পাওয়া যায়। কিন্তু তেল না থাকায় যাত্রী পেয়েও গাড়ি চালাতে পারছেন না।

জননী বাসের পরিচালক লিয়াকত হোসেন বাবুল বলেন, সামনে ঈদ। এ সময় জ্বালানি সংকট দেখা দিলে পরিবহন মালিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, জ্বালানি তেল না থাকায় ফিলিং স্টেশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে পরিবহন মালিকরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments