সিবি ডেক্স: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সিগাল পয়েন্টে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর মেহেদী হাসান আবির (১৮) নামের এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে তিন বন্ধু মো. আরিফুল ইসলাম, মো. তানজিন ও মারুফুল হাসান রিপনের সঙ্গে কক্সবাজারে আসেন আবির। তারা কলাতলীর একটি হোটেলে ওঠেন। বেলা দুইটার দিকে সুগন্ধা সৈকতের উত্তর পাশে সিগাল পয়েন্টে টিউবে ভেসে গোসল করতে নামেন।
গোসলের এক পর্যায়ে হঠাৎ বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় আবির পানিতে ছিটকে পড়ে নিখোঁজ হন। সঙ্গে সঙ্গে লাইফগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকেল পাঁচটার দিকে তাকে সমুদ্রের তলদেশ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবির চট্টগ্রামের আজিজনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারে একটি সিসিটিভি ক্যামেরার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
সৈকতে দায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি সি-সেফ লাইফগার্ড প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ জানান, সুগন্ধা ও সিগাল সৈকতের দেড় কিলোমিটার এলাকায় ওইদিন ৮০ থেকে ৯০ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে। চার বন্ধু টিউবে ভেসে গোসল করার সময় হঠাৎ ঢেউয়ের আঘাতে আবির নিখোঁজ হন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে আবির অচেতন হয়ে পড়েন এবং লোনাপানি খাওয়ায় তার পেট ফুলে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সাঁতার জানতেন না। সাঁতার না জানা পর্যটকদের গভীর পানিতে যেতে নিষেধ করা হলেও অনেকেই তা মানছেন না।
সি-সেফ লাইফগার্ডের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন ২২ মার্চ থেকে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ পর্যটকের সমাগম হচ্ছে কক্সবাজার সৈকতে। এর মধ্যে অধিকাংশ পর্যটক সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সতর্কতা না মানার কারণে অনেকেই দুর্ঘটনায় পড়ছেন।
তিনি জানান, কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ২৭ জন লাইফগার্ড উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকলেও এর বাইরে বিশাল সৈকত এলাকায় তেমন কোনো উদ্ধার ব্যবস্থা নেই, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
0 Comments