বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার সকালে তিনি ফুলের মালা নিয়ে যান জামায়াত মনোনীত পরাজিত প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিউর রহমানের বাড়িতে। শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে এ সৌজন্য সাক্ষাতে সৃষ্টি হয় ভিন্ন এক আবহ। কুশল বিনিময়ের পর নিজের বিজয়ের ফুলের মালা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর গলায় পরিয়ে দেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। মুহূর্তটি উপস্থিত নেতাকর্মী ও গ্রামবাসীর কাছে প্রতীকী হলেও রাজনীতির মাঠে এটি সম্পর্কের অটুট বন্ধনের বার্তা দেয়।
ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটাররা অতীতে জয়-পরাজয়ের পর উত্তেজনা, হামলা কিংবা ভাঙচুরের নজির দেখেছেন। তবে এবারের দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। অনেকেই এ ঘটনাকে শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন।
এ সময় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন অটুট রাখতে হবে। বিভেদ নয়, ঐক্যের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। জুলাইয়ের আন্দোলন ও তরুণদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়—এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করবে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে। উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। ১ লাখ ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন আসাদুজ্জামান।
0 Comments