দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আইন পেশায় সাফল্যের কারণে কেন্দ্র ও তৃণমূল—উভয় পর্যায়েই তিনি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত। তিনি জানান, ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ১৯৮৪ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্নের পর আইনশাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৮৬ সালে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আইন পেশায় যুক্ত হন।
পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে কক্সবাজার জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দলের সংকটময় সময়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং তৃণমূলকে সক্রিয় করতে ভূমিকা রাখেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। তার নেতৃত্বে জেলা বিএনপি সুসংগঠিত কাঠামো পায়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনে বিএনপির বিজয়কে অনেকে তার সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
পেশাগত জীবনেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেন। ২০০১ সালে দেশের প্রথম নারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চার দশকের আইন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ বহু মামলা পরিচালনা করেছেন। ওয়ান-ইলেভেন সময়কালে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৯টি মামলার দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
কালের কণ্ঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে মামলা পরিচালনা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং কারাবন্দিদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাজনৈতিক মামলায় নিজেও একাধিকবার জড়ালেও অবস্থান থেকে সরে যাননি বলে জানান। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে তিনি কারও প্রতিপক্ষ নন এবং তার সঙ্গে কারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নেই।
এদিকে কক্সবাজার ও বান্দরবান থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে মনোনয়নের দাবি জোরালো হচ্ছে। কক্সবাজার সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস. এম. আকতার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি সংগ্রামী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব দেখতে চান এবং তার মতে, শামীম আরা বেগম স্বপ্না অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে যোগ্য প্রার্থী।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সৈয়দ আলম বলেন, দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে তিনি অটল ছিলেন এবং পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তার বিকল্প দেখছেন না।
কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্ট জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিমও বলেন, দীর্ঘদিনের জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি স্থানীয় রাজনীতি ও আইনাঙ্গনে নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকেছেন। তার ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনে তার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।
0 Comments