সোমবার যশোরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সফরে এসে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ভোট দিয়েছে। ভোট গণনায় কত সময় লাগে, সে ধারণা তাদের রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, কেউ যদি ভোট গণনায় দেরির অজুহাত তুলে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণকে তা প্রতিরোধ করতে হবে।
যশোর জেলা বিএনপির আয়োজনে দুপুরে যশোর উপশহর কলেজ মাঠে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই জনসভাস্থলসহ আশপাশের ঈদগাহ মাঠ, বাদশা ফয়সল স্কুল মাঠ ও সড়কগুলো নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সকালে খুলনার জনসভায় ভাষণ শেষে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে যশোরে পৌঁছান। বেলা আড়াইটায় মঞ্চে উঠে তিনি ৪০ মিনিট বক্তব্য দেন।
সংক্ষিপ্ত এই সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলা—যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার বিএনপি মনোনীত ২২ জন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ এখন মা-বোনদের কাছে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর চাইছে এবং সৎ লোকের শাসনের কথা বলছে। তিনি বলেন, অসৎ প্রস্তাব দিয়ে কাজ শুরু করে সৎ শাসনের কথা বলা সবচেয়ে বড় অসততা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে যারা জনগণের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলতে পারে, নির্বাচনের পর তারা আরও কতটা মিথ্যা বলবে তা সহজেই অনুমেয়। নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
দেশ পুনর্গঠন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে যশোরের ফুল বিদেশে রফতানির উদ্যোগ নেওয়া হবে, আখ চাষ ও চিনি কারখানা পুনরায় সচল করা হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্বোধন করা উলাসী খাল খননের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি নিজেও খাল কাটতে আসবেন। যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের জিকে প্রকল্প পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরের মধ্যে আটকে রাখার কথা বলছে এবং কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছে, যা কলঙ্কজনক। তিনি হযরত বিবি খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, কর্মজীবী নারীদের অপমান করার অধিকার কারও নেই।
বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর কথা জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষ নেতারা।
0 Comments