কক্সবাজারের টেকনাফে টানা জালে একসঙ্গে প্রায় ১৩০ মণ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে। পোয়া, ফাইস্যা, মলা, ছুরি, বাটা, রূপচাঁদা ও ইলিশসহ নানা প্রজাতির ছোট-বড় মাছ বিক্রি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকায়। বিরল এই ঘটনা দেখতে শনিবার দুপুরে সৈকতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকায় জেলে রফিক আলম মুন্নার জালে মাছগুলো ধরা পড়ে। সকাল ৮টার দিকে সৈকত থেকে ৩০ জন জেলে টানা জাল নিয়ে সাগরে নামেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে জাল টানতে গিয়ে দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পড়ছে। জালের ভার সামলাতে অতিরিক্ত শ্রমিক ডাকা হয়।
জালের মালিক রফিক আলম মুন্না বলেন, এত পরিমাণ মাছ একসঙ্গে খুব কমই ধরা পড়ে। জাল ভরে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ওঠে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে দরদাম করে মাছগুলো ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ জানান, ছোট মাছের দাম কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পোয়া ও ছুরি মাছের বড় অংশ তিনি কিনেছেন। বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে এসব মাছের একটি অংশ শুঁটকি তৈরি করা হবে এবং বাকিগুলো কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকার পাইকারি বাজারে পাঠানো হবে।
টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, শীত মৌসুমে ছোট মাছের প্রজনন বেশি হয়। সরকার নির্ধারিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় সাগরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। জেলেরা নিয়ম মেনে মাছ ধরায় এমন সাফল্য আসছে।
স্থানীয়দের মতে, একদিনে ১৩০ মণ মাছ ধরা পড়া জেলেদের জন্য আর্থিক স্বস্তির পাশাপাশি উপকূলীয় বাজার ও শুঁটকি শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
0 Comments