কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী হাজারো মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া, হ্নীলা ও হোয়াইকং ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ পরবর্তী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ, বাহারছড়া ও সদর ইউনিয়নের উত্তর লেঙ্গুরবিল ও মিঠাপানির ছড়া এলাকায় পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা ও সদর ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি ও চিংড়িঘের তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ও জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ জানান, পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বনকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাইকিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এদিকে সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেলেও ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লারা নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, তার এলাকার রঙ্গিখালী, সুলিচপাড়া, চৌধুরীপাড়া ও লামারপাড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হোয়াইকং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল জানান, পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পুরো ইউনিয়নে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, পাহাড়ধসের বড় ঝুঁকি থাকায় প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
টেকনাফে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। জলাবদ্ধতায় কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।


0 Comments