ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে কাঠামোগত সংস্কারের চিন্তা করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যেসব মন্ত্রণালয় ভেঙে আলাদা করা হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটিকে আবার একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই খাতে কাজ করছে—এমন কিছু মন্ত্রণালয়কে একটি ছাতার নিচে আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বাস্তবায়ন হলে সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয় একীভূত হতে পারে বলে জানা গেছে।
দলীয় সিনিয়র নেতাদের ধারণা, নতুন মন্ত্রিসভায় প্রায় দুই ডজন পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারেন। পাশাপাশি এক ডজনের মতো উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও রাখা হতে পারে।
মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে অতীতে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা এবং তুলনামূলক কম বিতর্কিত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
আলোচনায় থাকা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন। নারীদের মধ্যে সেলিমা রহমান ও শামা ওবায়েদ-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।
তরুণ নেতাদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ইশরাক হোসেন। মিত্র দল থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী ববি হাজ্জাজ ও শাহাদাত হোসেন সেলিমের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে দলীয় নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে, যেসব সিনিয়র নেতা মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হতে পারেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার আলোচনা রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, তা আগামী মঙ্গলবারের শপথ অনুষ্ঠানের পরই স্পষ্ট হবে।
0 Comments