জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পোস্টাল ভোট কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইরফান উল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সর্বশেষ হিসাবে কক্সবাজারের চারটি আসনে মোট ২৮ হাজার ৬৩০ জন পোস্টাল ভোটার ভোট প্রদান করেছেন। এবারই প্রথম নির্বাচন কমিশন দেশের ভেতরে ও বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী এবং চাকরিজীবীদের জন্য পোস্টাল ভোটের সুযোগ চালু করেছে।
অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটার অ্যাপে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থী ও ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করেছেন। তবে কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত ফলাফল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটার পর জানা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
আসনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে পোস্টাল ভোট পড়েছে ৯ হাজার ৬৩৫টি, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ৪ হাজার ২১২টি, কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯১৭টি এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ৩ হাজার ৮৬৬টি। সর্বাধিক পোস্টাল ভোট পড়েছে কক্সবাজার-৩ আসনে।
পোস্টাল ভোট গণনা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের পর কক্সবাজার ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও সহায়ক কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। নিয়মিত ভোটের আদলেই পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে, তবে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের পরিবর্তে সহায়ক কর্মকর্তারা এ দায়িত্ব পালন করবেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, প্রতি ৩০০ ভোটের জন্য একজন করে সহায়ক কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন। চারটি আসনের জন্য একজন প্রিসাইডিং অফিসার, নির্দিষ্ট সংখ্যক পোলিং কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ব্যালট বক্স খোলা হবে। স্ক্যানারের মাধ্যমে যাচাই শেষে ভোট গণনা করে আসনভিত্তিকভাবে প্রার্থীদের ভোট প্রদান করা হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য আলাদা পোস্টাল ব্যালটও গণনা করা হবে।
ভোট গণনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলো সিসিটিভির আওতায় রাখা হবে। ভোট গণনার সময় প্রার্থী নিজে অথবা তাঁর নিয়োজিত এজেন্ট উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
এবার প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর, ওমানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা এবং দেশের অভ্যন্তরে চাকরিজীবী ও কারাগারের আসামিরা পোস্টাল ভোট প্রদান করেন। তবে কোন দেশ থেকে কত ভোট এসেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা না থাকায় অনেক ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে পারেননি বলে বঞ্চিত ভোটারদের অভিযোগ রয়েছে।
0 Comments