ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট, ইনোভিশন কনসাল্টিংসহ সাতটি জাতীয় জরিপ বিশ্লেষণ করে দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে। তবে জয়ের ব্যবধান ও চূড়ান্ত ফলাফল ঘিরে অনিশ্চয়তা অনেক বেশি।
হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিচালিত সব জরিপেই জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বিএনপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ব্যবধান একেক জরিপে একেক রকম। ন্যারেটিভ/আইআইএলডির জরিপে ব্যবধান মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ হলেও ইনোভিশনের সর্বশেষ প্যানেল স্টাডিতে বিএনপি ২১ দশমিক ৮ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন জরিপ পদ্ধতির কারণেই এই তারতম্য বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআরএফ/বিইপিওএস জরিপ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। দলটি আগে নিয়মিতভাবে মোট ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ পেত। এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্রায় ৪ কোটি ভোটার নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। এর প্রায় ৩০ শতাংশ ইসলামপন্থি দলগুলোর দিকে ঝুঁকছে, যার দ্বিতীয় প্রধান সুবিধাভোগী জামায়াতে ইসলামী।
বাংলাদেশের ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে ভোটের ব্যবধান কম হলেও আসনের ব্যবধান অনেক বড় হতে পারে। ন্যারেটিভ জরিপ অনুযায়ী, জাতীয়ভাবে জামায়াত বিএনপির চেয়ে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ পিছিয়ে থাকলেও আসনের ব্যবধান ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে।
তবে বিএনপির বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে দলটির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ। মনোনয়ন না পেয়ে ৯২ জন নেতা ৭৯টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিএনপি ১৫ থেকে ৩০টি আসন হারাতে পারে।
তরুণ ভোটারদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশই জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম। জরিপে দেখা গেছে, প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণদের ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে পছন্দ করেন। তরুণদের ভোট উপস্থিতি জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি হলে জামায়াতের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
এ ছাড়া ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোটার এখনো দোদুল্যমান। ন্যারেটিভ জরিপে এ হার ১৭ শতাংশ। এই ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমন্বিত পূর্বাভাস অনুযায়ী সবচেয়ে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা হতে পারে— বিএনপি ও জোট ১৮৫, জামায়াত ও এনসিপি ৮০, জাতীয় পার্টি ১০, ইসলামী আন্দোলন ৫ এবং অন্যান্য ও স্বতন্ত্র ২০টি আসন।
দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের চূড়ান্ত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল অর্জন করে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে জয়ের ব্যবধান নিয়ে, যা নির্ধারিত হবে দোদুল্যমান ভোটার, বিদ্রোহী প্রার্থী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর।
0 Comments