বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ঈদগাঁও ইউনিয়নের গরুর বাজার সংলগ্ন জাগির পাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম সামিয়া জান্নাত (১৮)। তিনি ঈদগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাসার একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়, এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, একটি কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর সে আত্মহত্যা করেছে নাকি কেউ তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে দিয়েছে তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নয়।
একাধিক সচেতন নাগরিক অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ একে ‘লাখ টাকার মিশন’ নয়তো পরিকল্পিত অপতথ্য ছড়ানোর অংশ হিসেবেও দেখছেন যা ভবিষ্যতে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু পোস্টে সরাসরি শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের নাম টেনে এনে এমন ভাষায় লেখা হয়েছে, যাতে বিদ্যালয়টিকেই যেন ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, পরিচয়ের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে, কিন্তু বিদ্যালয়কে টার্গেট করে উপস্থাপন অনৈতিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
স্থানীয়রা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এবং একই সঙ্গে অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
0 Comments