Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

এস আলম–সিকদার গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা

সিবি ডেক্স: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) থেকে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২০৭ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাতের অভিযোগে বিতর্কিত শিল্প গ্রুপ এস আলমের কর্ণধার সাইফুল আলমসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার, তার ভাই ও পরিচালক রিক হক সিকদার, তাদের তিন বোন মমতাজুল হক সিকদার, লিসা ফাতেমা হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার এবং রিক হকের ছেলে জন হক সিকদারকেও আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসআইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী ও ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, জন হক সিকদার ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর বেঙ্গল ও অ্যান্ড এম সার্ভিসেস নামে এসআইবিএলের কারওয়ান বাজার শাখায় হিসাব খোলেন। একই দিনে তিনি পাওয়ার প্ল্যান্টের দুটি কার্যাদেশ বাস্তবায়নের কথা বলে ১৫০ কোটি টাকার বাই-মুরাবাহা ঋণের আবেদন করেন। কিন্তু দুদকের তদন্তে কোনো কার্যাদেশ বা জামানত পাওয়া যায়নি। তবু ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে এবং একই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ১২টি ডিলের মাধ্যমে পুরো অর্থ বিতরণ করা হয়। এরপর এস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এম এস কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপারস, মাহবুব এন্টারপ্রাইজ ও ম্যাম ইমপেক্সের অনুকূলে যথাক্রমে ৪৭ কোটি, ৪৮ কোটি ও ৬০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। কোনো জামানত, কার্যাদেশ বা যাচাই ছাড়াই অনুমোদিত এ অর্থ একই দিনে বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হয়। বর্তমানে সুদসহ এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। দুদক অভিযোগ করেছে, আসামিরা যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন।

গত বছর জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই এস আলম ও সিকদার গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে দুদক।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারে জড়িত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধেও মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে ৭৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর আড়ালে তিনি প্রায় ১৮ কোটি টাকার স্থাবর ও ৫৭ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।

মিঠুর মোট সম্পদের হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে বৈধ আয় ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা হলেও বাকি ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ হিসেবে ধরা হয়েছে। ২০১৬ সালে পানামা পেপারসেও মিঠুর নাম আসে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও সরবরাহের নামে প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

Post a Comment

0 Comments