শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের ধলিরছড়া রেলক্রসিংয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আসমাউল হোসনা (২৭), তাঁর ছোট বোন রেণু আরা আক্তার (১৩), দেড় বছরের শিশু আশেক উল্লাহ ও অটোরিকশাচালক হাবিব উল্লাহ (৫০)। প্রথমে সবাই ধারণা করেছিলেন, অটোরিকশায় থাকা সাড়ে তিন বছরের আতাউল্লাহও নিহত হয়েছেন। এমনকি স্বজনরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
কিন্তু রাতে চমকে দেওয়া এক ঘটনায় আতাউল্লাহ নিজেই ফিরে আসে নানাবাড়ি ভারুয়াখালীতে। জানা যায়, দুর্ঘটনার আগে পথে মাদ্রাসায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল শিশুটিকে, যা তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
আতাউল্লাহর নানা জাফর আলম বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিন্নভিন্ন মরদেহ দেখে ভেবেছিলাম আমার সব শেষ। কিন্তু রাতে আতাউল্লাহকে যখন মাদ্রাসা থেকে কেউ বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যায়, তখন নিজ চোখেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এটা আল্লাহর রহমত।”
দুর্ঘটনার পরে এলাকার মানুষজন বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। রশিদনগর রেলক্রসিংয়ে একটি স্থায়ী রেলগেটের দাবিতে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ঘটনার সময় ট্রেনেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
রামু থানার ওসি মো. তৈয়বুর রহমান জানান, “দেহাবশেষ দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল পাঁচজন মারা গেছেন। পরে আতাউল্লাহ ফিরে আসায় সংখ্যা কমে দাঁড়ায় চারজনে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী রেলপথে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
0 Comments