Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

চার সন্তানের মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পলাতক

সিবি ডেক্স: ভালোবেসে বিয়ে, দীর্ঘদিনের সংসার, চার সন্তান—এরপরও শেষ রক্ষা হলো না সৈয়দা ফাহমিদা তাহসিনের (কেয়া)। রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় গত ১৩ আগস্ট মধ্যরাতে স্বামী সিফাত আলীর হাতে শ্বাসরোধে খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁরা দাবি করেছেন, হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন সিফাত।

ফাহমিদার ফুফা মো. শামসুদ্দোহা খান জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে রান্নাঘরে খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফাহমিদা। এসময় বাইরে থেকে এসে স্বামী সিফাত প্রথমে তাঁকে মারধর করেন, পরে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে হত্যা করেন। রাত ২টার দিকে সিফাত ফোন করে পরিবারকে জানান, “কেয়া অসুস্থ।” হাসপাতালে গিয়ে পরিবার দেখতে পায় ফাহমিদা মৃত, আর সিফাত পালিয়ে গেছেন। সন্তানদের বোনের বাসায় রেখে বাসা তালাবদ্ধ করে চলে যান তিনি।

পরিবারের দাবি, রান্নার হাঁড়িতে তখনো মাংস-মসলা ছিল। সন্তানদের রেখে আত্মহত্যার গল্প বিশ্বাসযোগ্য নয়। ফাহমিদার মা নাজমা বেগম মিরপুর মডেল থানায় সিফাতসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তবে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। থানার ওসি সাজ্জাদ রোমন জানিয়েছেন, তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে, শিগগির প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জে স্ত্রী সাবিনা বেগমকে (৩০) হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলার অভিযোগে স্বামী আনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা। সাবিনার গলায় আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।

এছাড়া গত এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইয়াছিন আলী নৃশংসভাবে হত্যা করেন স্ত্রী লামিয়া আক্তার (২৩), চার বছরের সন্তান আবদুল্লাহ রাফসান ও স্ত্রীর বোন স্বপ্না আক্তারকে (৩৫)। মাদকাসক্ত ইয়াছিন জেল থেকে বের হয়ে গলা কেটে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে মাটিচাপা দেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩৬৩টি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় ৩২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০৮ নারী ও শিশু খুন হয়েছেন এবং ১১৪ জন আত্মহত্যা করেছেন। শুধু স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন ১৩৩ নারী। এ ছাড়া স্বামীর পরিবারের হাতে ৪২ এবং নিজ পরিবারের হাতে খুন হয়েছেন ৩৩ জন।

নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের চিত্রও ভয়াবহ। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইন ‘১০৯’-এ ৭ মাসে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এসেছে ৪৮ হাজার ৭৪৫টি। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নারী নির্যাতনের কল এসেছে ১৭ হাজার ৩৪১টি। এর মধ্যে ৯ হাজার ৭৪৬টি পারিবারিক নির্যাতন এবং ৯ হাজার ৩৯৪টি কল সরাসরি স্বামীর বিরুদ্ধে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল আই খান মনে করেন, পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং সামাজিক চাপ নির্যাতনের অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, নারীদের শিক্ষাগত ও আর্থিক ক্ষমতায়ন জরুরি, পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ ও শাস্তির ভয় তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ফাহমিদার পরিবারের মতো অনেকেই ন্যায়বিচার নিয়ে সন্দিহান। মামলা করতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের। এখনো আসামিরা ধরা না পড়ায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক সচেতনতা, আইন প্রয়োগ ও নারীর ক্ষমতায়নের সমন্বয় ছাড়া পারিবারিক সহিংসতা রোধ সম্ভব নয়।

Post a Comment

0 Comments