‘অস্ত্রবাজি থেকে মূলধারার রাজনীতি, আবার অপরাধে ফেরা’
৯০-এর দশকে ‘গণমুক্তি ফৌজ’ নামক চরমপন্থি সংগঠনের হয়ে কুষ্টিয়ায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন লিপটন। একাধিক খুনসহ চাঁদাবাজি ও অস্ত্র কারবারে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের সান্নিধ্যে এসে ফুলের তোড়া দিয়ে মূলধারার রাজনীতিতে নাম লেখান।
র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসানের (বর্তমানে কারাবন্দি) ঘনিষ্ঠ হয়ে লিপটন গড়ে তোলেন গুম-খুনের ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক। তার নির্দেশেই বহু নিরীহ ব্যক্তিকে র্যাব দিয়ে ধরে নিয়ে ফাঁসানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নতুন রূপে
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান লিপটন। পরে বিএনপির স্থানীয় নেতা জাকির সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ডে ফের সক্রিয় হন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে নিশ্চিত তথ্য পেয়ে শুক্রবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৬টি পিস্তল, একটি বন্দুক, বহু ম্যাগাজিন, গুলিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তার সহযোগীদের কাছ থেকেও নানা অস্ত্র পাওয়া যায়।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও শাস্তির দাবি
লিপটনের বিরুদ্ধে বহু নিরীহ ব্যক্তিকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, র্যাব দিয়ে তুলে নেওয়া, নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন তার ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাবাসী তার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে
লিপটন ছিলেন এমন এক অপরাধী, যিনি ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অপরাধ করে গেছেন। এবার তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত হলে এটি হবে চরমপন্থি থেকে ‘রাষ্ট্রপন্থি’ হয়ে ওঠা অপরাধীদের বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা।
0 Comments