নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে করা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বকর। তিনি জানান, শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান। কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ। আদালত সূত্র জানায়, চার দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ। আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করতে ভবিষ্যতে তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। এর আগে ১১ অক্টোবর গভীর রাতে পল্লবীর বাসা থেকে কাজী গুলশান আরাকে এবং পরবর্তীতে বনানীর বাসা থেকে দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১২ অক্টোবর আদালত তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় বসে নির্দিষ্ট কিছু প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সরকারবিরোধী তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রচার করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। পল্লবী থানার পরিদর্শক মো. আলী আকবার বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একশ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা ও উসকানির মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।


0 Comments