প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও বন্ড ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া করোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গত ১৪ অক্টোবর থেকে তারা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তিহার জেলে বন্দী ছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ২১ অক্টোবর পুলিশ তাদের আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন করেছিল। তবে জামিন বন্ড ও জামিনদারের তথ্যাদি পর্যালোচনার পর বিচারক তাদের মুক্তির আদেশ দেন। এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লির বিমানবন্দর থেকে আটক করার পর ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা বা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিশেষ বন্ডে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে মুক্তি দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু এর দুই দিন পর ১৩ অক্টোবর তারা দিল্লির যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ গেট ডিঙিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ জানান। নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও আগে স্বাক্ষরিত বন্ড ভঙ্গের অভিযোগে ১৪ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ তাদের পুনরায় আটক করে। পরবর্তীতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। ১৯ অক্টোবর পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ান। এদিকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার সকালে দিল্লি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এই দুই নেতা। তবে হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রামানিয়াম প্রসাদ তাদের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার বন্ডের বিধান ও এর গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভর্ৎসনা করেন। আদালত মন্তব্য করেন, বন্ড বা মুচলেকা ভঙ্গ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য এবং আন্দোলনে নেতার পেছনে সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধ হলে তা অনেক সময় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে সহিংস রূপ নিতে পারে। পরবর্তীতে সিজেপির আইনজীবীরা দিল্লি হাইকোর্টে উত্থাপিত রিট আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন এবং বিকেলেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার মুক্তির আদেশ দেন।
তিহার জেল থেকে মুক্তি পেলেন করোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই মুক্তির নির্দেশ দেন।


0 Comments