পাবনার সাঁথিয়ায় বৃদ্ধ ও অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অনীহা প্রকাশ করেছেন সাগর হোসেন নামের এক গ্রাম পুলিশ সদস্য। তবে মায়ের ভরণপোষণের জন্য মাসিক কত টাকা দিতে হবে, তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে ছেলের সঙ্গে থাকার আকুতি জানিয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁর মা মুন্নি খাতুন। অভিযুক্ত সাগর হোসেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম ও মুন্নি খাতুন দম্পতির ছেলে। তিনি নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত আছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুন্নি খাতুনের স্বামী সিরাজুল ইসলাম আগেই মারা গেছেন এবং মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বৃদ্ধ বয়সে মায়ের প্রধান অবলম্বন একমাত্র ছেলে সাগর। কিন্তু সাগরের বিয়ের পর থেকে মায়ের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং তিনি মাকে ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন। স্থানীয়ভাবে সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে মুন্নি খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে মায়ের সঙ্গে রেখে দেখাশোনা করার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। তবে সাগর মাকে নিজের সঙ্গে না রাখার বিষয়ে অনড় থাকেন এবং ইউএনওকে জানান যে মাকে সঙ্গে দিলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। তিনি শুধু মায়ের ভরণপোষণের জন্য কত টাকা দিতে হবে তা জানতে চান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগর হোসেনকে কয়েক দিনের সময় দেন এবং এ সময়ের মধ্যে মায়ের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার বিষয়ে সমাধানে আসতে বলেন। অন্যথায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ভুক্তভোগী মা মুন্নি খাতুন জানান, তিনি হার্টের রোগী এবং ছেলের কাছে টাকা-পয়সা নয়, কেবল শেষ বয়সে একটু আশ্রয় চান। নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, মা-ছেলের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও ছেলে রাজি না হওয়ায় তা ব্যর্থ হয়, যার ফলে মা ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ জানান, উভয় পক্ষের শুনানির পর ছেলেকে বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবনার সাঁথিয়ায় অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে চান না গ্রাম পুলিশ সদস্য ছেলে। ভরণপোষণের জন্য কত টাকা দিতে হবে তা জানতে চেয়েছেন তিনি, আর শেষ বয়সে ছেলের ঘরে আশ্রয় চেয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মা।


0 Comments