নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা ঘনিয়াকাটা পকিরাপাড়া এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত সাত দিন ধরে একটি চক্র দিনে প্রকাশ্যে এবং রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে মাটি সমতল করছে। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পকিরাপাড়া এলাকায় প্রতিদিনই পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, রাতের বেলায় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল এবং দিনের বেলায়ও কয়েকজন শ্রমিক পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত থাকেন। এভাবে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম (৩৮) ও তাঁর স্ত্রী রেহেনা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। আবুল কালাম ওই এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, একটি ভিডিওতেও আবুল কালামকে পাহাড় কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল কালাম ও তাঁর স্ত্রী রেহেনা আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি খাসজমির পাহাড় এভাবে কেটে সমতল করা হলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভূমিধস ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও পাহাড় কাটার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড়ে দিনের পর দিন কীভাবে এমন কর্মকাণ্ড চলছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং পাহাড় কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
এ বিষয়ে রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরূপ মুহুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, উখিয়ারঘোনা এলাকায় পাহাড় কাটার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পাহাড় কাটার সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা সরকারি খাসজমি ও প্রাকৃতিক পাহাড় রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ও রামু উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এখন দেখার বিষয়, স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং সরকারি খাসজমির পাহাড় রক্ষায় কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
রামুর উখিয়ারঘোনা পকিরাপাড়ায় সাত দিন ধরে সরকারি খাস পাহাড় কাটার অভিযোগ স্থানীয়দের। রাতে ১০-১৫ জন ও দিনে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন বলে দাবি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।


0 Comments