থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা চলাকালে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার নানা দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী জানান, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল, গম ও বিভিন্ন নিত্যপণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের এই ইতিবাচক বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা আরও বাড়ানো উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি বা আমদানি-রপ্তানির ব্যবধান কমানোর ওপর জোর দিয়ে আসছিল। মার্কিন পক্ষের সেই তাগিদ বিবেচনা করেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ক্রয়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলেছে। এমতাবস্থায় তাদের দিক থেকেও যথেষ্ট সহায়তা আসা উচিত এবং বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছেন বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মার্কিন সম্পর্ক যখন একটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং দেশ যখন মার্কিন বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উড়োজাহাজ ও নিত্যপণ্য কিনছে, তখন যদি এই সহায়তা না আসে তবে তা আর কখন আসবে, সে বিষয়টি মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শুরু করা বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের বিরূপ প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন শুল্ক আরোপের চাপ সফলভাবে সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়ায় সরকার। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুই ধাপে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট হোয়াইট হাউজ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো একটি বিশেষ চিঠিতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ক্রয়ের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের জন্য তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, বোয়িং কখনো হতাশ করবে না। এই সামগ্রিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রশাসন এখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আরও সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ব্যাংককে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা বাড়ানোর জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


0 Comments