সীতাকুণ্ড উপজেলার সন্দ্বীপ চ্যানেলে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের সময় ভোলা থেকে আসা চারটি নৌকা, সাত টন মা ইলিশ এবং এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার নৌকার মালিককে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ সুরক্ষার স্বার্থে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জীবিকা সচল রাখতে সরকারিভাবে চালসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার কিছু জেলে সন্দ্বীপ চ্যানেলের গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. ইকবাল হোসাইন ও তাঁর দল সহযোগিতা করেন। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার এই অভিযানে জেলারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা চালায় এবং পরে ব্যর্থ হয়ে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তাঁদের আটক করা হয়।
অভিযানে জব্দকৃত প্রায় সাত টন ইলিশ মাছের বাজার মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা এবং এক লাখ মিটার কারেন্ট জালের বাজার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। জব্দ করা জাল পরবর্তীতে পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং উদ্ধারকৃত ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ জানান, ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়কে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় এই সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মা ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সীতাকুণ্ডে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় সাত টন ইলিশ ও চার নৌকা জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে চার নৌকার মালিককে জরিমানা এবং জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।


0 Comments