চলتی বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থার কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সংঘাত ও এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যের দামও ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে জানিয়েছেন, জ্বালানির বাড়তি খরচ ও বাণিজ্যে বাধার ফলে মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্য অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শ্লথ করে দিতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এছাড়া ২০২৬ সালে খাদ্যের দাম ১০ শতাংশ এবং আগামী বছর আরও ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে, যা করোনা মহামারি বাদে চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হবে। একই সঙ্গে চলতি বছর তেলের ব্যবহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। এল নিনোর প্রভাব, খাদ্যশস্য সরবরাহের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং জ্বালানি ও সারের চড়া দামের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি একসঙ্গে বাস্তব হলে ২০২৭ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় দাম প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলারে দাঁড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষ ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন আয়হান কোসে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ৮৭০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তাও প্রদান করেছে বিশ্বব্যাংক।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।


0 Comments