বরগুনার সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমানের ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে এই আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনের পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। ওই সময় ১৪ আসামির তিন দিন এবং ফারজানা নামের একজনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। তিন দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর শুক্রবার ১৪ আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক ইকবাল হোসেন। তাঁরা হলেন মো. ইয়াকুব হোসাইন, আরাফাত মিয়া, রিফাত হাওলাদার, হৃদয় হাসান, ফাহিম, রাজিব হোসেন, মো. ফিরোজ, মো. আরিফ, মো. ওমর ফারুক, আবদুল্লাহ আল আমান, মো. আবদুল্লাহ আল নোমান, মো. সোহানুর হোসেন শাহীন, মো. হাসিব ও মো. হাসিব মিয়া। শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ১১ জনের পক্ষে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি শওকত হাসানুর রহমানের বাসায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের আটক করে। এ সময় অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২২ জন আসামি পালিয়ে যান। তল্লাশির সময় রুমের টেবিলের ড্রয়ার থেকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদপ্রার্থী ২০ জনের জীবনবৃত্তান্ত জব্দ করা হয়। আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সদস্য বলে পরিচয় দেন। এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
সাবেক এমপি শওকত হাসানুর রহমানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৪ আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


0 Comments