মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা দূর করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন একটি সমঝোতার প্রস্তাব পেশ করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। দ্য নিউ আরবের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুই দেশের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই উদ্যোগকে মধ্যপন্থী সমঝোতার প্রস্তাব বা মিডল গ্রাউন্ড প্রোপোজাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের সব দাবির পূর্ণ সমাধান না হলেও কিছু দাবি পূরণের সুযোগ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানানো হলেও ইরানের দাবি ছিল বিদেশে আটকে থাকা দেশটির অর্থ ছাড় করা। নতুন প্রস্তাবটিতে দুই পক্ষের এসব দাবির আংশিক সমাধানের পথ খোঁজা হয়েছে। দ্য নিউ আরবের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গত মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সে সময়ই এই প্রস্তাবটি ইরানের কাছে তুলে ধরা হয়। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এবং গোপনে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার বা আইএইএর পরিদর্শকদের দিয়ে পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিতে হবে ইরানকে। এর বিপরীতে কাতারে জব্দ থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ৬০০ কোটি ডলারের অর্থের লভ্যাংশ বা সুদ ইরানকে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আগে গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সংঘাত এড়াতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তবে এই নতুন সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এখনো ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মধ্যপন্থী সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান ও কাতার।


0 Comments